Description
পাবনা: যৌতুক হিসেবে দাবি করা টাকা না পেয়ে স্বামী মনিরুল ইসলাম এসিড নিক্ষেপ করে ঝলস দিয়েছেন তার নববধূ বিপাশা আফরীনে (২০) শরীর।
গুরুতর আহত অবস্থায় নববধূকে পাবনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
আহত বিপাশা পাবনা পৌর সদরের কৃষ্ণপুর মহল্লার শাহজালাল পাশুর মেয়ে।
বুধবার রাত ৮টার দিকে পাবনা পুলিশ লাইন মাঠের পাশে বড় সেতুর কাছে এ এসিড নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ওই নববধূর শ্বশুর খন্দকার গোলাম রসুল বাবলু (৫৫) ও শাশুড়ি আসমা খাতুনকে (৫০) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছে বিপাসার স্বামী মনিরুল ইসলাম (২৫)। মনিরুলের বাড়ি পৌর সদরের ছোট শালগাড়িয়া মহল্লায়।
আহত নববধূর বড় বোন আফসানা মালেক (পপি) বাংলানিউজকে জানান, গত বছরের ৫ অক্টোবর মনিরুলের সঙ্গে বিপাশা আফরীনের বিয়ে দেওয়া হয়। বিয়ের সময় নগদ দুই লাখ টাকা ও সোয়া দুই ভরি স্বর্ণের গয়না দেওয়া হয় বলে দাবি করেন তিনি।
পপি জানান, কিন্তু মনিরুল আরও দুই লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন। যৌতুকের টাকা এনে না দেওয়ায় বিপাশার ওপর নির্যাতন চালান মনিরুল ও তার পরিবারের লোকজন। নির্যাতনের মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় সম্প্রতি বিপাশাকে বাবার বাড়িতে নিয়ে আসার পর কিছুদিনের ব্যবধানে বিপাশাকে দু’বার তালাকনামা পাঠান তার স্বামী মনিরুল ইসলাম। কিন্তু বিপাশা সে তালাকনামা গ্রহণ না করায় আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন তারা।
এরই জের ধরে বুধবার রাতে বিপাশা তার মায়ের ওষুধ আনার জন্য যাওয়ার পথে মনিরুল ও তার মা আসমা খাতুন বিপাশাকে এসিড নিক্ষেপ করে পালিয়ে যান বলে অভিযোগ করেন পপি।
এ সময় আফরীনের চিৎকারে আশপাশের লোকজন তাকে উদ্ধার করে পাবনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। নিক্ষিপ্ত এসিডে বিপাশার গলার নিচের দিকে ঝলসে গেছে।
সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রওশন আলী বাংলানিউজকে জানান, এ ঘটনায় বিপাশা নিজেই বাদী হয়ে স্বামী, শ্বশুর ও শাশুড়িকে আসামি করে বুধবার রাত ১১টার দিকে মামলা দায়ের করেন।
মামলার পর অভিযান চালিয়ে নিজ বাড়ি থেকে বিপাশার শ্বশুর খন্দকার গোলাম রসুল বাবলু (৫৫) ও শাশুড়ি আসমা খাতুনকে (৫০) গ্রেপ্তার করা হয়।
পলাতক থাকায় স্বামী মনিরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।
গ্রেপ্তার দু’জনকে বৃহস্পতিবার দুপুর ১টার দিকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে বলে জানান এসআই রওশন আলী।
| Credibility: |
 |
 |
0 |
|
Leave a Comment