Description
বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার ধাওয়াগীর গ্রামে এক গৃহবধূকে তাঁর স্বামী পিটিয়ে ও শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। গত বৃহস্পতিবার রাতে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে।
নিহত গৃহবধূ সুমি খাতুন (১৯) উপজেলার উত্তর কৃষ্ণপুর গ্রামের চতু প্রামাণিকের মেয়ে।
এ ঘটনায় নিহতের বাবা বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার রাতে শিবগঞ্জ থানায় জামাতা সাবু মিয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। বাকি আসামিরা হলেন, সাবু মিয়ার ভাই বাবু মিয়া, মা রাবেয়া বেগম ও মামা আবু বক্কর সিদ্দিক। আসামিরা সবাই পলাতক।
নিহতের পরিবার ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ওই গ্রামের হাকি খন্দকারের ছেলে সাবু মিয়ার (২৬) সঙ্গে উত্তর কৃষ্ণপুর গ্রামের সুমিত্রা রানীর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। কিন্তু বাধা হয়ে দাঁড়ায় ধর্ম। সাত মাস আগে সুমিত্রা রানী ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। তাঁর নাম রাখা হয় সুমি খাতুন। এরপর তাঁরা পালিয়ে বিয়ে করেন। প্রথমদিকে সাবুর পরিবার এই বিয়ে মেনে নেয়নি। পরে বিষয়টি মিটমাট হয়ে যাওয়ায় দুই মাস আগে তাঁরা বাড়ি ফিরে এসে সংসার শুরু করেন।
কিন্তু সুমির ওপর সাবু ও তাঁর পরিবারের লোকজন অত্যাচার করতে থাকেন। গত মঙ্গলবার রাতে সুমিকে বেদম মারধর করেন সাবু। একপর্যায়ে শ্বাসরোধে হত্যার পর লাশ খাটের ওপর রেখে লাশের ওপর লেপ তুলে ঘরে তালা ঝুলিয়ে দিয়ে পালিয়ে যান। শুরুতে প্রতিবেশীরা ভেবেছিলেন তীব্র শীতে সুমি হয়তো লেপ মুড়ি দিয়ে শুয়ে আছেন। কিন্তু দীর্ঘ সময়ও তিনি ঘর থেকে বের না হলে বৃহস্পতিবার দুপুরে মারা যাওয়ার বিষয়টি গ্রামবাসী প্রথম জানতে পারেন। পরে তাঁরা পুলিশকে খবর দেন।
গ্রামবাসী জানান, সাবু মিয়া খুচরা সবজি বিক্রেতা। তিনি এর আগেও একটি বিয়ে করেছিলেন। কিন্তু সে স্ত্রী আর সাবুর সঙ্গে থাকেন না। আগের স্ত্রী বাবার বাড়ি আছেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শিবগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক মজিবর রহমান জানান, গৃহবধূর গলায় মারাত্মক জখম রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, মারধর করার পর তাঁকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে।
শিবগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) লুৎফর রহমান বলেন, আসামিদের গ্রেপ্তার করতে পুলিশ জোর চেষ্টা চালাচ্ছে।
| Credibility: |
 |
 |
0 |
|
Leave a Comment