Verified

তবুও বিপাশার বিয়ে ঠেকালো না প্রশাসন! --- চাটমোহর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাবিবুল ইসলাম বা

01:57 Jan 19 2012 Chatmohor, Pabna

Description
চাটমোহর (পাবনা): সবকিছু জানার পরও একটি শিশুর বিয়ে ঠেকাতে কোনো পদক্ষেপই নেয়নি প্রশাসন। উপরন্তু তাদের উদাসীনতা আর গাফিলতির সুযোগ নিয়ে বৃহস্পতিবার দুপুয়ে অনেকটা তড়িঘড়ি করে বাল্যবিয়ে সম্পন্ন করেছে শিশুটির পরিবার।

প্রাথমিক স্কুলের গণ্ডী পেরিয়ে বই খাতা হাতে হাইস্কুলে যাওয়ার স্বপ্নভঙ্গের বেদনা নিয়ে বালিকাবধূ সেজে শ্বশুড়বাড়িতেই যেতে পাবনার চাটমোহর উপজেলার লাউতিয়া গ্রামের কন্যাশিশু বিপাশাকে (১১)।

বুধবার স্থানীয় সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে বিপাশার বাল্যবিয়ের প্রস্তুতির বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্টদেররা জানানো হলেও বিয়ে বন্ধে তারা কোনো ধরনের পদক্ষেপ নেননি।

প্রসঙ্গত, বুধবার বাংলানিউজে ‘আজ বিপাশার গায়ে হলুদ কাল বিপাশার বিয়ে...’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়।

বাল্যবিয়ের শিকার কন্যাশিশু বিপাশা চাটমোহরের হরিপুর ইউনিয়নের লাউতিয়া গ্রামের গ্রামের দরিদ্র নুরুল ইসলামের মেয়ে। সে চলতি বছর প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর তার পড়ালেখা বন্ধ ছিল। তিন ভাই এক বোনের মধ্যে বিপাশা দ্বিতীয়। তার বড়ভাই বিপ্লব (১৪) চাটমোহর আরসিএন অ্যান্ড বিএসএন উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র।

স্থানীয় সূত্র জানায়, বিপাশার প্রথম জন্ম নিবন্ধন সনদে জন্ম তারিখ দেওয়া আছে ৩ জানুয়ারি ২০০০। কিন্তু বিয়ে দিতে গিয়ে বয়স কম হওয়ায় হরিপুর ইউনিয়ন পরিষদ থেকে বিপাশার আরেকটি জন্ম নিবন্ধন সনদ করা হয়। সেখানে জন্ম তারিখ উল্লেখ করা হয়েছে ৩ জানুয়ারি ১৯৯৩। এসবকিছু জানার পরও এ বাল্যবিয়ে পড়িয়েছেন ওই ইউনিয়নের কাজী।

বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টার দিকে বিপাশার বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, বন্ধ হয়ে যাওয়ার ভয়ে বিয়ের যাবতীয় কাজ তড়িঘরি করে শেষ করে বিপাশাকে তার শ্বশুড়বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।

বিপাশার স্বামীর নাম আনিসুর রহমান (২২)। পেশা কৃষিকাজ। তিনি ঈশ্বরদী উপজেলার দাশুড়িয়া ইউনিয়নের কালিকাপুর গ্রামের আফাজ উদ্দিনের ছেলে।

এ ব্যাপারে বিপাশার বাবা নুরুল ইসলাম ও মা রওশন আরা খাতুন বাংলানিউজকে বলেন, ‘আমরা গরিব মানুষ। মেয়ের বিয়ে ভেঙে গেলে আর বিয়ে দিতে পারবো না। তাছাড়া লোকজন দাওয়াত দেওয়া এবং বিয়ের অন্যান্য কাজ আগেই সম্পন্ন করা হয়েছিল।’

কিন্তু এ সময় তারা বিপাশাকে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে দিতে রাজি হননি।

লাউতিয়া বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আশারাফুল ইসলাম বাংলানিউজকে জানান, ‘আমাদের স্কুল থেকে গত প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায় সে উত্তীর্ণ হয়েছে। এতো অল্প বয়সে বিয়ে দেওয়া মেয়েটার জীবন নষ্ট করা ছাড়া কিছু নয়।’

ইউপি চেয়ারম্যানসহ উপজেলা প্রশাসন জানার পরও এ বিয়ে রোধে কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো তারা বাল্যবিয়েকে তারা উৎসাহিত করেছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

হরিপুর ইউপি চেয়ারম্যান মো. মকবুল হোসেন বাল্য বিয়ের কথা স্বীকার করে বাংলানিউজকে বলেন, ‘মেয়েটির পিতা গরিব। ওই ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সুপারিশ করায় বিয়ের আগেরদিন গতকাল বুধবার আমি বয়স বাড়িয়ে জন্ম নিবন্ধন সনদ সার্টিফিকেট দিয়েছি।’

চাটমোহর উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা চিত্রা রানী সাহা বাংলানিউজকে জানান, ‘আমি উপজেলার বাইরে থাকায় বুধবার বিষয়টি জানার পর আমি ইউএনও স্যারকে জানিয়েছিলাম। এ বিষয়ে তিনিই ভালো বলতে পারবেন।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ফিরোজ শাহ বাংলানিউজকে বলেন, ‘এ ধরনের বিয়ে আসলে প্রতিরোধ করা মুশকিল। পরিবারের সদস্যরা কাগজপত্র দেখাচ্ছেন মেয়ের বয়স ১৮ বছর। সেক্ষেত্রে আমাদের কী করার আছে।’

অথচ বুধবার এ বিষয়ে বাংলানিউজের পক্ষ থেকে ইউএনওর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেছিলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নাই। আপনি নাম ঠিকানা পাঠিয়ে দিন আমি ব্যবস্থা নেবো।’

সবকিছু জানার পরও কেন বাল্যবিয়ে রোধে উদ্যোগ নিলেন না জানতে চাইলে তিনি প্রসঙ্গ এড়িয়ে যান।

চাটমোহর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাবিবুল ইসলাম বাংলানিউজকে জানান, ‘বাল্যবিয়ের বিষয়টি আমাকে কেউ জানায়নি। তাই কোনো ব্যবস্থাও নেওয়া সম্ভব হয়নি।’
Credibility: UP DOWN 0
Leave a Comment
Name:
Email:
Comments:
Security Code:
15 + 5 =